পরকীয়া
তোমার অনুরোধ আসেনি, তাও লিখি।
বিবর্তিত জীবনে ঘ্রাণ নিতে গিয়ে মেয়েটা ফেরেনি,
দিস্তে চিঠিকে কবিতা বলে ভুল করেছে আমার স্ত্রী,
সে ইদানিং চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে তাকায়,
সে চোখে আমি দাঁড়াতে পারি না।
পাথর ঠুকে আদিম জ্বলনে তাকেই তো পেলাম।
অনুরোধহীন এক কাপ চা আর কিছু অসংলগ্ন ম্যাসেজ
এখনো আমাদের মোবাইল ভারী করে তোলে…
পরকীয়া ২
রোদ আর বৃষ্টির মাঝের ফাঁকটুকু একটু হেঁটে যাওয়া,
কৃষ্ণচূড়ার নীচে
একটি অবিন্যস্ত চায়ের দোকান।
তোমাকে ছেড়ে তো অতটুকুই যেতে পারতাম।
একটি রিক্সা প্রবীন গতিতে চলে গেল তাকে নিয়ে।
দুধের প্যাকেট আর কয়েকটা ডিম নিয়ে
ঘরে যে ফিরে এলো
একদা সে তোমার বিছানা থেকে উঠে
খুলে বসেছিল রাতের মোবাইল…
পরকীয়া ৩
হাঁটু অবধি জল আর উড়ন্ত ছাতা—
এভাবেই একদিন বেরিয়ে পড়েছিলাম।
জানলা ডিঙিয়ে নামতে গিয়ে হাঁটুতে এখনো স্মৃতিক্ষত।
দরজায় দাঁড়িয়েছিল আমি বাদে আমার সর্বস্ব।
এখন বাড়ি ফিরছি।
একে একে খুলে যাচ্ছে সব কপাট।
নিজেকে এভাবে দেখানোর শোকের চেয়েও নির্মম
সে আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে,
সমাজভাবনার দলিলে লেখা হয়েছে আর একটি আত্মখনন।
পরকীয়া ৪
ভ্রমর কালো দাগ কেটে যায়,
মেয়েটা ঘরে ফিরে আসে।
গভীরের সেইসব নির্মেদ মেঘ বৃষ্টি হতে চায়।
আমি তো পাগল।
গান গেয়ে ফেরি করি প্রেম।
কলঙ্ক জমাট বাধা বিকালে
পাত পেতে খেতে দেয় অনাম্নী নারী।
খিদের চোখ হারিয়ে ফেলেছে তাকে,
সেই গ্রীবা, সেই স্তন, সেই সমস্ত উরুর প্রলেপ।
জলভেজা ইজেল তখন একটা ভাম্যমান নদ।
সে চানঘরে যায়।
ঘষে ঘষে তোলে স্পর্শ দাগ।
সাবান ধুয়ে ফেলে কান্না মাতাল জল।
ঘর ছেড়ে যে রাধিকা অভিসারে গিয়েছিল
আজ তার মুখে সংশোধনের মন্ত্রপাঠ।
‘লোকটির বউ আছে।
লোকটির আছে সুখী সংসার।’
সমুদ্র সৈকতে এখন নেমে পড়েছে তারা,
একে অন্যকে খেয়ে ফেলছে বৈধ ছাতায়।
মেয়েটা চানঘরে স্পর্শ করে নিজের শরীর।
আমি বিশু পাগলের মত কেঁদে উঠি, নন্দিনী, আমায় খেতে দে..



