ভাগচাষি
বুক রেখেছি পেতে
প্রান্তহীন মাঠ
পাঁজর থেকে ঘাসের জনতা আকাশ সরিয়ে উঁকি দিচ্ছে…
কেউ কেউ এসে পুকুর কেটে জমাচ্ছে দুঃখ,
গাছের মতো পুঁতে যায় গোপন কথা
ক্লিন্ন জমির উপর মুঠো মুঠো তলা ছড়িয়ে গেল
ভাগচাষি
পরের হালে চলে যাবে অন্যত্র
বুনবে আরেক সুষম জমিন
তবুও শুয়ে থাকি নির্জন জ্বেলে
কোণে পুষে রাখছি এক ডিঙ্গেগাড়ি—আফসোস
চাঁদ ও ফুসফুস
কোথাও নেই আলো…
মাঠের সমতল বুকে, গাছের কাঁধে
তবুও ক্লিন্ন জমির নাভি জলে কীসের ভাস্বরতা!
একটি গাছের ফুসফুসে জমে আছে চাঁদ
কুঁড়ির ভেতর জন্ম নিচ্ছে বক
কিছু অতিকায় প্রাণী দূরের পাড়ে জাবর কাটে…
হাঁটুর নিচে রাখা সরার জলে
চলছে তাদের ছায়া-প্রচ্ছায়ার অবগাহন…
কৈফিয়ৎ
এবং সল্টলেক,
মানুষের রাস্তা কমছে…
তবুও স্কুল ফেরত ছেলেটির বেপরোয়া সাইকেল ফিরছে বাঁক নিতে নিতে
কাঁধের পাশে উঁকি দিচ্ছে ইমারত, এখানে মাটির ভূমিকা কম, আর্দ্র প্রচ্ছন্নতা
কৃষ্ণভিলার ব্যালকনি থেকে গাছেরা হাত তুলে, মাথা ভেজায়… ফ্যালফ্যাল করে দেখে রাস্তার গাছগুলি
কিছু কাঠগোলাপ এখনো জমে আছে
যেভাবে থেকেছ বুকের উপর…
যাপিত নিঃশ্বাসের ওঠানামা খুঁজেছে কানের লতি
তাদের কৈফিয়ৎ নেব কোনো একদিন
দেবদারুর কার্নিশ
৯ নাম্বার জলট্যাংক; হাঁটু ঘেঁষে অলংকারহীন কিছু গাছ…
পুলিশ ফাঁড়ির বাজেয়াপ্ত গাড়ি— ষড়যন্ত্র কষছে
ট্র্যাফিক সিগন্যাল মেনে ঘুরছে কুকুর, দুটো উলঙ্গ
দেবদারুর আওতায়
শহর তখনও জেগে, দুটো বট গাছের আলিঙ্গন…
স্পর্ধা দেখছে প্রোমোটার
কিছু সমান্তরাল রেলিং, ত্রিকোণ সবুজ ছেড়ে
খামখেয়ালি রাস্তা
দীর্ঘকায় জেব্রার পিঠে চেপে দেখছি শহর,
আরও শহর-ধমনি…
হকার
তোমাকে যখন দেখি
হকারের শেষ পণ্য বিক্রির মতো আনন্দ হয়, ঘন স্বস্তিও পাই
যখন দেখি না , নিজেই হকারি করি
নির্জনে…
সমস্ত অলিগলি চটিতে লেগে থাকে



