ভ্রম এসো
স্বপ্নে দেখা পুরুষ মানুষ এক সমুদ্রকালীন শস্য
তুমি তার তরঙ্গের অতিকায় বপু
বিস্ফারিত চোখে গ্রাস করতে শিখেছ কি?
হাড়ের বাঁশিতে ফুঁসে উঠে হাওয়া
অথবা পিস্তলে ক্র্যাক শট কানে টোকা মেরে তার
নিভিয়ে দিয়েছে অনুস্বর
বস্তুত অনুচ্চারিত কথাগুলো স্তনের ওপর দোল খাওয়া বর্ণমালা
হাতের মেহেদি অপঠিত
কঠিন আকাশ
জেলিমাছ কবে থেকে তার আঠায় জড়াল তাকে?
পদতলে কাঁকড়ার কঙ্কাল মাড়িয়ে
বহুমুখী প্রতিভায় একজন নারীই তো পারে নিয়ে আসতে
গোলাপে বিষ্ঠার গ্রাণ, কিংবা দোসর হতে দেবতার
ইচ্ছা তবু কায়ক্লেশে ব্যর্থ করতে গিয়ে হয়ে যায় কুক্ষিগত …
স্বপ্নে দেখা পুরুষ মানুষ এক সমুদ্রকালীন শস্য।
ফিরে দেখা
দুই বুক অন্ধকারে এসেছে বৈরাগ্য
তাকে তুমি চাওনি ঝর্নায়
ধুয়ে নেবে পশুর পাকস্থলীর মতো
শিকারের পর রক্ত ধুয়ে নেবে ভাবনি কখনও
কিন্তু কপালের স্বেদ মিশে আছে ললাট-লিখনে
ঘোলা চোখে শেষবার দেখে যেও তোমার যা আজ
কাল তা-ই অপরের হবে
তবুও আক্ষেপ করে রাস্তা হারিয়েছ কাটা বনে একা
এখন ফেরার দিক তুমি আর খোঁজো না
‘যদিও ওখানেই আছি, যদি মনে হয় দেখা করে যেও’
মেসেজে লিখেছি
কিন্তু কাকে?
আত্মহননের পথে যেতে যেতে এই ফিরে দেখা।
চৈতের পবন
ছায়াবন ধার দিও ছাউনি তোমার
দেখোনি আমার চোখ আজও কত অক্ষত আকাশ
মেঘ মুক্ত, এ কেমন পরদেশ ভাবো
নিজের ভেতরে এসে নিজেকে পাচ্ছি না!
ছায়াবন তোমাকে যেন কতদিন চিনি
তুমিও কি লোধ্ররেণু, রোদের দহন সয়ে সয়ে ক্লান্ত, চাও
তোমারও নিজস্ব একজন কেউ হোক?
সারাটা জীবন যে খুঁজেছে
প্রাণপণ আত্মসমর্পণ
কী ক্ষতি বাড়বে আর যদি ডেকে নাও
দিশেহারা পথিকের বেশে যদি এসে থাকে চৈতের পবন?
ষষ্ঠ মহাবিলুপ্তি
একটা মিঙ্কে তিমি পরে আছে তীরে
সমুদ্রের দীর্ঘ চুল ছাড়িয়ে ছাড়িয়ে একটা ভাঙা ক্লিপের মতো
তাকে এ-পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছে শিকারীরা
পিঠে বিঁধে আছে তরতাজা হারপুন।
বরফ শান্ত সন্ধের উপকূলের ওপর দিয়ে
মাছির মতো ভনভনিয়ে উড়ছে দু’চারটে ড্রোন
কিছু বিমর্ষ মুখের পরিবেশবীদ
তাকিয়ে রয়েছে শিকারীদের আহ্লাদিত ঢেউয়ে দুলতে থাকা জাহাজটার দিকে
পোসাইডনের ত্রিশূল চকচক করছে
অতলের তিমিরে তার দ্যুতি মুহ্যমান
সমুদ্রের ভেতর থেকে কি উঠে আসছে মিঙ্কে সেনাদের প্রতিঝংকার?
লালসার জিভ তবে একটা পেণ্ডুলাম
প্রার্থনাকে একটা মাছির মতো ভোঁ ভোঁ শব্দে
ঘুরতে ঘুরতে কেন রোজ পুরনো চার্চের ঘণ্টায়
লিখতে হবে শব্দ?
সমুদ্রের পেট কেটে জন্মদিন পালন করছে ওরা
মোমবাতি হয়ে গলে পড়ছে ঘোলাটে চাঁদ।



