নিচে ঝরাপাতা
ফাল্গুনের রাতে গ্রামগায়ে, তারার আলোয়,
ঝরাপাতা মাড়িয়ে মাড়িয়ে হাঁটি আমি পথে।
সঙ্গী আছে একটি কুকুর, পাতার আওয়াজ…
দীর্ঘ গাছ তার পাতা ঝরিয়েছে দেখি চারিদিকে:
সামান্য হাওয়ায় সারাদিন পাতা ঝরিয়েছে সেতো!
শূন্য করে ডাল যেন আকাশেতে বাড়িয়েছে হাত-
ওপরে তারার আলো জ্বলে, নিচে ঝরাপাতা শুধু,
আমার সাথের কুকুরটি সেও হেঁটে চলেছে পিছে…
১৮/০২/২০২৫
নতুন পাতার জন্য
সারাদিন ঘরে বসে থাকি রুগ্ন শরীরটি নিয়ে,
ফাল্গুনের মেঘলা আকাশ, পাতা ঝরা বন দেখি!
দুই একটি পাখি ডাকে, কানে আসে, পাতা খসে-
নতুন পাতারা উঁকি দেয়, তাকিয়ে সময় যায়-
অলস মুহূর্ত, অলস শরীর, জানলা দরজা খোলা,
তবু ফুলগুলো ফুটে আছে, উজ্জ্বল রঙের খেলা,
বয়স বেড়েছে বুঝি কিছু! পাতা ঝরে বনে বনে…
নতুন পাতার জন্য আমি বসে আছি চেয়ে দূরে-
১৯/০২/২০২৫
আমি ভালো আছি জেনো
আমি ভালো আছি জেনো! কোনো দুঃখ নেই আর
সারাক্ষণ আমি স্বপ্ন করি সব চোখে পারাপার—
তুমি স্বপ্নহীন? ওঠো, নাও নানান রঙের স্বপ্ন!
মনে মনে জেনো আমি, আজো শুধু কেবল তোমার
যে রয়েছে একা ঘরে, চোখ থেকে জল মুছে দেখ
পড়েছে তো জানলায় আলো, পাখিদের কলরব
জীবনের উৎসবটুকু চোখে মুখে মেখে, হাসি রাখ!
ভাবো তুমি একা নও! কবির দেওয়া স্বপ্ন সঙ্গে আছে!
অন্নহীন অন্ন আসে আজ, অর্থহীনে অর্থ পায় সব,
গৃহহীন জনে গৃহ পায়, বস্ত্রহীনে হয় বস্তু লাভ—
২৪/০৮/২০২৩
গত শতাব্দীর আটের দশকের অন্যতম প্রধান কবি তীর্থঙ্কর মৈত্র। জন্ম ১৯৫৯ সালের ২ জুন। তাঁর জাদুকর কলমে বাংলা প্রেমের কবিতার অনন্ত চাষ! তিনিই বলতে পারেন, ‘পৃথিবীর সমস্ত প্রেমিকের প্রতিনিধি আমি’। তীর্থঙ্করের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল ‘সমুদ্রের বিস্তারের মতো তুমি’, ‘হে মেঘের ভাষ্কর্য’, ‘রানু এক জ্বর’, ‘বৃষ্টির ভালো হোক’, ‘বসন্তের গিটার’, ‘এসেছে নতুন ঘোড়’, ‘শালিখের ঠোঁটে খড়’ ইত্যাদি। ২০২৫ সালের ২১ আগস্টে প্রয়াত হয়েছেন কবি।


কিশোরের সম্পাদনায় অসাধারণ এক পত্রিকা… রঙে রসে ভাবনায় টইটম্বুর। ওর মতোই স্বপ্ন দিয়ে বোনা।
শিরীন শিরিণ তোমায় অমরত্ত্বের আশীর্বাদ দিলাম ।
সৌগত