মৃত্যুদিনের শুভেচ্ছা নিও হ্রীং
দৃশ্য – ৮৯
বল বল বল বল বল…
বলার আরাধ্য ফোটে
এক মানুষ গুঁজে নেয় আরেক মানুষকে
বুক থেকে পাছা থেকে লিঙ্গ থেকে ফোটে অবাক স্ফুটন
ধর্ষিত পাখিটি উপহার দ্যায় ওড়া
পাখির মাকে, পাখির বৌকে, পাখির মেয়েরা যারা
দড়ি নিয়ে খেলছি মাগো
ফাঁসের চরিত্রে দানা প’ড়ে আছে
শিক্ষার মুখে লাথি মারলো হ্রীং। লালা ঝরিয়ে দেখলো নিজেকে। অসংখ্য তলপেট। স্কিপ করলো সে। তথ্য বাদ চ’লে গ্যালো। এই আয়না নরকের। নরকটাও চুরি হয়ে গ্যালো। দান্তের মুখোমুখি হ্রীং। কে এবার ভক্ষক হবে! ভাবতে ভাবতে লাঠি ঘুরে গ্যালো। নিজেকেই পেটাচ্ছে হ্রীং। সে পুলিশ ছিল না। পোষাকের রং, সাদা ছিল শুধু …
দৃশ্য-৮৮
শশশশশশশশ চুপ
‘সে-মন্দিরে দেব নাই, কহে সাধু’
দড়ি ডানে দড়ি বামে
শিউরে ওঠে মহাফেজখানা
নিরাপত্তায় আসুন
বলুন ব’লে ফেলুন
চাপবেন না, ক’রে ফেলুন
এটাই শিশুবিশ্ব, বোমার ঘায়ে নীল হয়ে আছে
হ্রীং ফাটছে। ফাটাচ্ছে অপূর্ণ করোটি। ঘিলু, ঘা ও অবৈতনিক ঘুম… জিব নড়ছে শুধু। নড়ার প্রয়োজনে। ক্ষমতা আর ক্ষতির খননে, এসো হা-মন্ত অনন্ত বনবন। এসো খুন, উল্লাস… হে হনন, এসো। ফিরে যাচ্ছে ভোট, ভোটের নাতি-নাতনীরা। রক্তের নির্দেশগুলো। হাসছে হ্রীং। নড়ছে হাহাকার। শাসনের হ্রীং। ভাষণের হ্রীং তবু, নেতা ছিল না।
দৃশ্য – ৮৭
ছোট ঘটনায় রাখি
তোর ‘সিংহ’-কে রাখি
এই চাঁদ
লাফাচ্ছে যখন
সেই লাফ
দ্যাখাচ্ছে যখন
আপনার হাসি
সুন্দর ও সফল গর্জনে চুরি ক’রে নাও
সেই মতো হ্রীং ধর্মের পাছা তুলে ধরে। ভ’রে যায় অপূর্ব ছায়াটি। লালনের ছায়া। ‘কী রূপে পুড়লো মানুষ জগৎ-ধামে’। মানুষ নামে রহিম-রামে। জগৎ-কায়া ছুঁয়ে বসে হ্রীং। আশ্চর্য শ্মশান। নক্ষত্র পুড়েও পোড়ে না। হ্রীং আজ করোটি ফেরত। হ্রীং আজ ছায়াটি ছাড়া।
দৃশ্য-৮৬
রমানাথ লেগে গ্যালো
তবুও আশ্চর্য গঠন আমাদের উল্কার কাছাকাছি
মা আমার বেলান্তবেলায় অনন্তে গড়াল…
এই কল্পলোক ঝিঁঝিঁদের
ঝিরিপথে জন্মালো যারা
দেশ পেলো না
রে মহান রে ধর্মের হাঁ রে আমাদের
হাওয়াজলের লোহায়
মরিচামানুষ আমাদের
ডট ডট ডট ডট কেলাসিত জলে খুন হয়ে গ্যালো
রমানাথে ডুবে গ্যালো দেশ
হ্রীং বাজিয়ে দিলো মানুষখেকো গান। হ্রীং হাতে নিল ঘুমের পেয়ালা। ঘুম আসে না। খুনমানুষে টানা হয় খিদে। ব্রুম ব্রুম ব্রা ব্রা হাং হাং হিম – আশ্চর্য গাইছে কারা… ‘আমায় বোলো না, গাহিতে বোলো না’। একটা ক্লিক।হ্রীং শিল্পী ছিল না…
দৃশ্য – ৮৫
কবিতা পড়ছে হ্রীং-
তবুও মেঘার্জীবাবু মেরামত করলেন ‘মা’
শব্দটা হয়তো হয়তোবা
একমাত্র সে আপনি আমি
আমরা জানি না
মেঘ থেকে
মেগাওয়াট থেকে
মেটিয়াবুরুজ যাওয়া হ’ল না
নিচে বসতি
মেঘার্জীবাবুর অর্জন
হাঁটতে হাঁটার পারে
আমরা জানি না
বৃহৎ চ্যাটার্জি
স্ট্রিট নয়
হাততালি নয়
ব্রহ্ম কী?
আব্রহ্ম হরমোনে… হাড় হাড় হিমযান তবু…
আমি শব্দের কাছে শুরু হোল
খোলা হ’ল
মেঘাই একমা দুই এক্কে পা
অনন্ত খেয়াঘাটে তে-রে-কে-টে ধা…
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ২ মিনিট আগে ও পরে হ্রীং পৌঁছে গ্যালো দৃশ্য-৮৪ তে…
দৃশ্য – ৮৪
আমরা যারা হেনাপালিত
তবুও ছিবড়ে খাবো মাংস খাবো
নেহা নেহা চিৎকারে
এসো কোকিলবসতি
নিজেকে খুঁজে নাও কাকের মাঝখানে
আশ্চর্য খিঁও
চিৎকার করলো চন্দ্রবিন্দুর পাশে
হাঁক্লান্ত মানুষটি ক্লিক করছে
ভেঙে দিয়ে নক্ষত্রআবাসন
এসো পাগল ক’রে তুলি
লিঙ্গসাধক হ্রীং গ্রীন শ্রীশহর
এসো দেহ পড়ি। দেহদেহ পড়ি। হাতিয়ে তুলি দান। বিনিময় করি শিশ্ন আর যোনি। এসো হট্টরোল, এসো ধা-কড়কড় অসমাপ্ত ধ্বনি। হ্রীং থেকে রিং থেকে অনুস্বর থেকে এসো হে-পালিত সূত্রকাপালিক।
(ভোট + নোট)n— বিস্তার করো
গৃহপালিত মানুষ — বিস্তার করো
গাছের অরন্ধন — বিস্তার করো
ঈশ্বরের ডাক — বিস্তার করো
মৃত্যুর পর — বিস্তার করো
জন্মের আগে — বিস্তার করো
দৃশ্য – ৮৩
দুটো পাহাড়। দাঁড়িয়ে আছে হ্রীং। খিস্তি ছুঁড়ছে সমানে। মাপছে প্রতিধ্বনি। আপনারা যাঁরা তদন্তে উত্তল ওই ভ্রূ-বহরা মেপে নিয়ে যান। পর পর তালি, পর পর গুলির শব্দ। টপকানো অভ্যাস করলো যাঁরা তাঁদের লড়াই দেখছে হ্রীং। কার আগে কে? ফাটছে ফাটছে নবীন ফোটনটি… আলফা-মানুষ, বিটা-লিঙ্গ, ডেল্টা-সহবাস… ভাবতে ভাবতে ফুরোচ্ছে মন্ত্র, ফিরতে ফিরতে শুকিয়ে যাচ্ছে পুজো…
আমি মন্দির চাই, ঈশ্বর চুপ…
আমি মসজিদ চাই, আল্লা চুপ…
আমি ক্ষমতা চাই, মানুষ চুপ…
পুড়ছে বিজ্ঞান
পুড়ছে শিক্ষা
পুড়ছে একটা গোটা দেশ
নব্যেন্দু হাসছে আর বলছে – ‘আমার একটা মোটর গাড়ি চাই…
মানুষ পুড়িয়ে ধর্ম হচ্ছে দেশ
গাছ পুড়িয়ে মানুষ হচ্ছে খিদে…
দৃশ্য – ৮২
আমদের মোহগান দাঁত লুকিয়ে হাসে। এই পাটাতন বিচারের…
ওই ঘর নীলরতনের
মিক্ষিত খিঁও
আড়াল তবু চটকে চটকে যায়
চোখ থেকে মুঠো সরায় হ্রীং
‘The skies are painted with unnumbered sparks’
বাদাম ভেঙে ব’সে আছে হ্রীং
খোসা ছাড়িয়ে মুখে পুড়ছে তারা
সৌন্দর্যের আগে সত্য… চিৎকার করছে ঋত্বিক। চোখ দুটো ভেসে যাচ্ছে কোমলে, গান্ধারে। একটা পেক্ষাগৃহ… জন্ম নিচ্ছে কোলাহল… কাঁটাতার নিয়ে ফিরছে মানুষ। অনুবাদ করছে একমাত্র ‘আমি’-কে।
দৃশ্য – ৮১
মিস্টার হতবাক মিসেস হাতবাক্স
হাতবদলের আগে
লুকিয়ে ফেলছে হ্রীং
তেরেবিনা তে রে বি না
একটা সাদর ঘোষণা তবু…
হাসির গল্পে চালান হয়ে যায়
হ্রীং দ্যাখে
হত্যাসমগ্রের ছায়া প’ড়ে আছে…
তবুও স্পার্মশিল্প আসে। হে আরাধ্য তুমি। নীহা রিয়া নীহারিকা অনীহা নীহার… হে স্পর্শবাক্য তুমি নিয়ে চ’লে যাও সূর্যের অবাধ্য জামা… চাঁদের অসমাপ্ত চাদর আমাদের দাও… খণ্ডিত টরেটক্কা অর্ধেক ক’রে…
দৃশ্য – ৮০
যতদূর জল
পলিথিনমাছ
যতদূর হাওয়া
প্লাস্টিকপাখি
যতদূর মাটি
দূষণমানুষ
যতদূর প্রাণ
ক্ষমাশীলগাছ
তবুও পুড়ছে…
হ্রীং তবুও কম্পন, কাঁপছে তারে… ভাঙা কুসুমের হ্রীং আপনার আমার স্মরণ খুলে দিলো। একটা দুটো টুকরো হ’ল যারা, তাদের আহ্নিক গতি… ঘুরিয়ে দেখছে পোঁদের করতাল। কী অদ্ভুত স্বাদ! চেটে দেখলো মহাকালফেউ। কেউ কেউ… তবুও ভুবনবালক। হ্রীং শুনলো- ‘খেলবি আয়’, দানো নাদানোর অদ্ভুত খেলা …
শিক্ষা: করোটিবল
স্বাস্থ্য: পাঁজরব্যাট
শুধু উইকেট দ্যাখা গ্যালো না।
দুই দল: শাসক ও বিরোধী
মাঝে একটা বুম, শুধু দুলছে
আর খেলছে যারা – চাঁদের আলোয় কঙ্কাল
হা হা হা হা
মুরগি করেছি মাগো
একটা টেবিল, দুটো চেয়ার
একথালা মাংস – ‘মৃত্যুদিনের শুভেচ্ছা নিও হ্রীং’



