Bengali poetry by Aranya Bandyopadhyay

অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কবিতাগুচ্ছ

নিঃশব্দে একটা গালি আমাকে অনেক বছর তাড়া করে চলেছে
এখন যতই ভালো মানুষটি হই না কেন
সে আমার ঝুঁটি ধরে নাড়ায় আর ঠাট্টা করে
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে চক্ষুশূলে বিদ্ধ করে সব দুরভিসন্ধি
বিছানায় পরে থাকে একাকী আত্মমৈথুন।

রাস্তাঘাটে, জনসভায় যেখানেই কিছু বলতে যাই
একটা চাপা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সে হুঁশিয়ারি দেয়, ‘চুপ কর!’
কিছুই বলতে পারি না
যেন নিজের প্রেতাত্মা ঘোরে নিজেরই চারপাশে
শোনা যায় এর কোনও হেকেমি দাওয়াই নেই
পৃথিবীর এক গুপ্ত কিতাবে শুধু লেখা :
‘প্রেমিক’ নামটি যখন গালি, তখন সে বেগবান তিরের ফলা
বেজুবান জমি ভেদ করে তুলে আনতে পারে শীতল ফোয়ারা।

যদি সময় আসে, যদি সময় আসত আমারও
শোধ করে দিতাম ওই বিষাক্ত চুম্বন
ঠোঁটের দিগন্ত রেখায় কালো লিপস্টিকের সূর্য ডুবে যায়
পরে, আরও পরে নুড়ি পাথরের ভেতরে
ফেনার সমুদ্র আসে সিল্কের শাড়ির মতো
সৈকতে খুনির ডায়লগ মুখস্থ করা মনে পড়ে,
জজ সাহেবের অর্বাচীন চাহুনির কাছে লুপ্ত হয়
প্রমাণের রেখা, জরাগ্রস্ত ব্রা, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট,
পুলিশ খুঁজে পায় পুলিশকে

মহাজাগতিক আইনের পায়ে
নূপুরের ধ্বনি বেঁধে দেয় একটি কবিতা।

আমার দিকে ফেরাও মুখ
যেমন সূর্যমুখী আলোর গন্ধে বাঁকিয়ে নেয় গ্রীবা
তেমনি বহুদূর এক জ্যোতিষ্কের দিকে ঘুরে তাকাও
নজর ঝলসে যাবে না,
প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত কাঠের শরীরে নিয়ে চিতা
দেখি না স্বপ্ন আর দেখি না
প্রত্যাখ্যানই প্রেম এখন
অভিমানের প্রহেলিকা বেয়ে নেমে এসো
বুকের ঘাস জমিনে আত্মসমর্পণ করবে বলেই তো—
নিজেকে এমন বিছিয়ে রাখা
মুখ ফেরাও ঊর্মি
বাসনা আর ত্যাগের মধ্যে এখন
অতি বিরল এক যুদ্ধবিরতি।

দোষারোপ করা শেষ হলে আমার কাছে এসো
ঝগড়ার লাল টগর ঝরে গেলে আমার কাছে এসো
এই জানলা থেকে ভালো সমুদ্র দেখা যাচ্ছে,
জাহাজের ভোঁ মিলিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমে
তুমি ঠোঁট ফুলিয়ে থেকো না,
প্রত্যেকবার একই ঋতু ইজেলে ভরে না রঙধনু।
আমাকে অবহেলায় ডুবিয়ে মারার পর
আমার কাছেই এসো,
বারবার ছোবলে নীল মণিহার বেদনা খচিত করে
অবসরে আমার কোলে এসে বোসো
এখান থেকে সমুদ্র দেখা যাচ্ছে ভালো…

আর কেউ না জানুক ঊর্মি
আমি তো জানি তুমি কতটা ভালোবাসো
ঢেউয়ের ফিরে আসা সমুদ্র সৈকতে!

আমাদের অনেক কথার পাশে শুয়ে আছে নদী
আঁকাবাঁকা দাগ কেটে… স্মৃতির ভেতরে

অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় পেশায় শিক্ষক। জন্ম ২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৮৫। বাংলা কবিতার জগতে পরিচিত নাম। অদ্যাবধি একমাত্র প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘সিদ্ধার্থ ও তিন যুবক’ । কবিতার পাশাপাশি লেখেন গান ও প্রবন্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top