A bunch of Bengali Poetry by Samiran Kundu

সমীরণ কুণ্ডু-র কবিতাগুচ্ছ

৭.
আদ্যন্ত স্মৃতি-সমীপেষু অনুভব গ্রাহ্য হোলো না। সত্যে উপনীত কোনো পশ্চাদপদ দীর্ঘতর। মুরাল-চিত্র ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। ঝুঁকে পড়া জানালায় রাত-কাঁপানো শিশির। আহ্নিকে বসেছেন যিনি পরাবাস্তব। শূন্য মুখাপেক্ষী এক যাত্রী নৃত্যরতা। দ্বিপদে ঘুঙুরের ধ্বনি। এখন থেকে ধারাবাহিক সেই তরঙ্গলোক বশীভুত কার

সম্মুখে অগ্নি-সম্প্রদায়। সমিধ উঁচিয়ে রাখে মুখপত্র। জ্বলনের সময় উজ্জ্বল কথামালা দ্যাখে ফসফরাস-রাত। গতি তার অশরীরী যখন, চরণামৃতে দেহ শান্ত হয়। ভাসে গান, ভাসে উপমা, আরো যারা ভাসে ভস্ম-চরাচর : আঁধার অ্যাতোই মহৎ ও তীক্ষ্ণ, বাঁধন না দিয়ে কি পারে

৮.
অধরা জগৎ থেকে ক্ষেত্র-ফল দৃষ্টি ফিরে পেলে সমূহ রচনা। ধরে নিলুম কোনো প্রস্তাব ছিলো। আলাপ-সূত্র— যে অর্থে কোনো জ্ঞানী। শূন্যের বিচ্ছুরিত রং ঝুঁকে দেখছে ফল

এই পৃথিবী, এইসব জড়-অজড় উভয়ই ঋণ সামগ্রী। জীবন দানের পর অথর্ব বিনাশ তবে কেন

ধরে নিলুম কোনো প্রস্তাব ছিলো না। ভান-ভনিতা ছাড়া একদিন গণিতের বশে সব অনিবার্য। একটি বিশেষ সময়ে তার নতুন ব্যাখ্যা নেই। অতঃপর একেকটি গোধূলি যেভাবে আঁধারে লুকায়

৯.
নারীমুখ স্বতঃস্ফূর্ত যখন, অনাঘ্রাতা দূরদর্শী। রূপবতী বিন্দু-চরাচর : ক্রমশঃ প্রকট। পলল মাটির দোলায় সুরম্য চোখের ডানা অবিরাম চারুকলা

আমার সামান্য প্রয়াস ও পাঠের আদলে যা নির্গত শ্রম : বুনোহাঁস জলের ঝাপট। কাঁপে তারা, কাঁপে রাত, জ্ঞানের শার্সি বেয়ে নামে যুদ্ধেের দেবী

নৈবেদ্যে এখন যা সাজানো আছে : বৃক্ষ সাজির দোলা, চন্দ্রিমা ছায়া-প্রসবিনী : আরো যারা অরণ্য-পাতা, বাগেশ্রী-রাগ, ফল-মূল সমেত জাগ্রত বীণা, সুরের সমস্ত ঘ্রাণ, অমৃত : কতটুকু চিনি

১০.
প্রসারণ হচ্ছে যার সেও শূন্যগামী অনন্ত-শাবক। কোনো নিরুদ্দেশ-প্রবাহ আমার কলমে এখন সাময়িক ভীষণ। যারা দৃশ্য : কারণে বা অকারণে হেলে আছে অথবা চোখের দ্যাখা মূলতঃ অসার। পাপ-পুণ্য বোধ, নাগরিক জালের ফাঁকে ডুবন্ত নাভি, ক্ষরণ কালোর্ত্তীর্ণ। অতএব মৃতের কররেখা জ্যোতিষীর নয়। যারা অদৃশ্য তথা নিরীহ বিবেক, পথ ধূসর। কল্পলোকের সেবা : আমারই বালক-বেলা, এভাবে গড়িয়ে যাবে জানা ছিল না

প্রসারণ ঘটছে যখন বেবাক রূপের থাবা কাঙ্খিত আঁধারে। এভাবেই অমরতা ব্রহ্ম শব্দটিকে শীর্ষে রেখেছে। ওদিকে চাঁদের আলোয় একখানি নিমগাছ

১১.
ছদ্মবেশ নিয়ে আত্মকথন এমন এক টানাপোড়েন— ছায়ারও ছায়া— অনুরূপ বিবিধ। কূট খেলে যাচ্ছে নিভৃতে। মেধাবী রং-য়ের কান্না। কোনো সতর্ক-বার্তা নেই। যে পথে মুহূর্ত, ঠিক যে কারণে উদ্বেগ প্রাধান্য পায়। গাঢ় বিষয়ের বাইরেও নিরপেক্ষ ঢেউ তখন ক্লান্তিহীন। সূচক হেলে আছে একবিংশে

নিয়মের বেড় কি ভাষ্যে রাখতেই হবে? ক্রিয়াপদ ছেড়েও তো বাক্য লেখা হয়। বন্দর-নাবিক দূরের নৌকো যথা। উপদেশ মুছে রাখে পূর্ব-পাঠ

সমীরণ কুণ্ডু বেলঘরিয়ার বাসিন্দা। জন্ম ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩। বাণিজ্যে স্নাতক। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘আরো কিছু নক্ষত্রবীজ’, ‘সেতুবন্ধের উপকরণ’, ‘পাতালঘরের সিংহাসন’, ‘বনসাই বেলুন’, ‘নিষিদ্ধ প্যাঁচার ডাক’, ‘সুদেষ্ণার ভিটে’। পেয়েছেন ‘ঋতবাণ সম্মাননা’, ‘ভুবনডাঙা কবিতা সম্মান’ ও ‘দৌড় সম্মাননা’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top