থমথমে
নিরুদ্দেশ হয়েছো কি তুমি?
অথচ ঘরেই আছো
আনমনে কত কথা হয়,
শাকান্ন আয়োজন হয় দুপুরে।
রাঙ্গামাটির পথে শালুক ভরা পুকুর
সামান্য বাতাসে ওরাই কারোর বাহন
দেহে জল আছে বলে, তুমি পথ খুঁজেছো
পৃথিবী ঝাপসা বলে, তুমি ভেসে গেছো ফাগুন নগরে
ছেঁড়া ছেঁড়া দ্বিধার পাথারে
হারানো চিঠি, বিরহ অনল জ্বলে
এসো হে পথরেখা,
লয়া তির তিরে কাসাই জলে
রেখে আসি টুসু প্রণাম….
তোমাকে দেখেছি ঘনঘোরে
সামান্য ইশারায় প্রাচীন আঁধার লোভ
বীরমাদল
এ মাহে বৃষ্টি নেই, শরম লাগে
এই প্রবাহতে ক্রমে সরে যাই
অথচ জন্ম নেয় ঘরদোর, যৌথখামার
জন্ম নেয় বীরমাদলের সুর
যে পথে হেঁটে এসেছো,
সেখানে এখনো বয় পুরাতন হাওয়া
পূর্বের মতন বঁধুয়ার রূপ দেখি, আড়চোখে
সহজ কুয়াশা উদবায়ী এই মানভূমে
আঁখি খুঁজি, জোড়া মাঘ মাসের আঁখি
শালবনের আগে মারাংবুরুর ভূমিকা
ভাবি প্রয়োজন, ওঠাপড়া শ্বাস, শুশ্রুষা
ভাসান
দীর্ঘকাল স্পর্শহীন, একা একা সাঙ্গ হল
অমন প্রহর
অথচ দমকা বাতাসে পরব আসে
যে পথে কাঁটাবন, ঝরে চন্দ্র
ঘটিভরা জলের আপ্যায়নে বিভোর
সেখানেই খুঁজে চলি তোমার বিস্তার
শাকভাতে বসবাস, নিদ্রায় পেখম মেলা
তারপর অথৈ পথে ব্যথাতুর ঝিঙাফুল
মহুলবনের গানে সঁপেছি যত চৈত্রদিন
এই পরাজয়ের আড়ালে সেই তো গুচ্ছ গুচ্ছ রাঙা-প্রস্তাব
অভিমন্যু মাহাতর জন্ম পুরুলিয়ার শরবেড়িয়া গ্রামে। পেশায় সাংবাদিক। এখনও পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা আট। মাটি কাব্যগ্রন্থের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি (যুব) পুরস্কার। কুড়মালি ভাষাতেও তিনি লেখালেখি করেন। কুড়মালি ভাষায় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি অনুবাদ করেছেন।



