“জানিস, তোর থেকে আমি পাঁচ বছরের বড় বসন্ত”, পড়ন্ত বিকেলে পলাশতলায় বসেই বলল তৃণাদি।
উত্তরে আমি বললাম, “নীল শাড়ি পড়লে তোমাকে না মায়াবী আকাশের মতো দেখায়! অনেক উঁচু আকাশ। যেখানে ঝগড়ার, যুদ্ধের নাম-গন্ধ নেই। চিল না, অত উপরে ওড়ে জীবনানন্দের ‘হায় চিল’। দেখেছ তুমি?”
“আমার বিয়ের পর যে কী করবি।” শাড়ির আঁচল দাঁতে চেপে, চোখ মাটিতে নামিয়ে বলল তৃণাদি।
উত্তরে আমি পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরালাম। তারপর বললাম, “কান্না বাই লেন বলে একটা ঝকঝকে রাস্তা বানিয়েছে বুম্বাদা। আমাদের পাড়ার নেতা গো। আমি নিয়ম করে ওই রাস্তা দৌড়ে পার হই। তার পরেই তোমার ঠিকানা—‘দুঃখের পাশের বাড়ি’। অপূর্ব নাম রেখেছ কিন্তু!”
“তোর সব চিঠি আমি পুড়িয়ে দিয়েছি। তোর সব উপহার মাটি খুঁড়ে পুঁতে দিয়েছি। ফিনিক্স হওয়ার চান্স নেই। বুঝলি।” বলেই হাসল তৃণাদি।
আমি বললাম, “জানো, আমি দেখেছি। প্রত্যেক মেয়েকেই কোনও না কোনও ফুলের মতো দেখতে। অবশ্যি স্বভাব অনুযায়ী আলাদা আলাদা তারা। কেউ গোলাপ, কেউ টগর, কেউ কামিনী। রাগি মেয়েরা এক্কেবারে জবা। তুমি কিন্তু শিউলি…আমার স্নিগ্ধ পৃথিবী।”
“বিয়েতে তোকে নেমন্তন্ন করব না।” বলল তৃণাদি।
উত্তরে বললাম, “তোমার শ্বশুরবাড়িতে উঠোন আছে? প্রেমিকের মতো উঠোন! আজকাল তো থাকে না। ঘর থাকলেও উঠোন থাকে না! ছাদ আছে নিশ্চয়ই! তবে টবেই একটা পলাশ গাছ পুঁতো। জানো তো এই পৃথিবীতে একমাত্র পুরুষ ফুল হল পলাশ।”
“লাল না, সবুজ বেনারসি পরব বিয়েতে। বুঝলি।” বলল তৃণাদি।
আমি বললাম, “টবে না পারলেও অসুবিধা নেই। আয়নার সামনে দাঁড়ালেও আমাকে দেখতে পাবে তুমি। কেবল বাথরুমের দরজাটা বন্ধ রেখো। দেখবে তোমার বুকে জ্বল জ্বল করছি আমি…পলাশ রঙের তিল।”
ডিরেক্টর বলল কাট।



