যুবতি কইন্যে ইন্দু শখ করে টবে পলাশ রোপণ করেছে। যৌবনের স্ফূটনে মানুশ কত কিছুই না করে! পরাবাস্তব ভাবনা প্রতিদিন তাকে মথিত করে : যেদিন পলাশের শাখায় হলুদ স্বপ্ন এসে দোল খাবে, তার যৌবন মুক্তি পাবে। মুক্তির মধ্যেই উদযাপন। উস্যাপনেই আনন্দ।
মফসসল শহর। দেড় কাটা জমিতে বাড়ি। অগত্যা টবই ভরসা। অন্য ভাবে এখানে বসন্ত বোঝার উপায় নেই।
বালিশের বুকে উপল ঠেকিয়ে ল্যাপটপে সিনেমা দ্যাখে একুশের ইন্দু। সুচিত্রা তার প্রিয় অভিনেত্রী। দীপ জ্বেলে যাই। কী অভিনয়! কী অপূর্ব কাহিনিবিন্যাস! বাঙালি রমণী মাত্রেই অন্তত একবার নিজেকে সুচিত্রা সেন ভাবে। ইন্দুও তার ব্যতিক্রম নয়। ইন্দুর বুকের মধ্যে অরণ্যের আলোড়ন। সব যেন, টইটম্বুর। সাজানো কুরুক্ষেত্র।
জানালা দিয়ে উদাস বাতাসের মিহি একটা তরঙ্গ ইন্দুকে সচকিত করে। ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখের কৌতূহল বাতাসের শিরশিরানি খোঁজে। তার দর্শনেন্দ্রিয় মথিত হয় পত্রহীন শীর্ণ পলাশশাখায় রঙের বিস্ফোরণ প্রত্যক্ষ করে। একজন প্রার্থিত দূত এসে দোল দিচ্ছে। একাঘ্নি সরগমে ইন্দুর তৃষ্ণার্ত হৃদয় বিদীর্ণ হয়। ওদিকে, ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে ঘরময় আলোড়ন তুলেছে ‘এমন বন্ধু আর কে আছ তোমার মতো সিস্টার’…
ইন্দু পাগল হয়ে ওঠে — বসন্ত এসে গেছে।



