রমানাথ মজুমদার স্ট্রিট
ব্যাক্তিগত রূপকথার মতো প্রতিটি ওষুধে এক-একটি উপশম থাকে, এখানে প্রবেশ নিষেধ।
দুপুরের অসংলগ্ন কথাবার্তায় চোরা শিকারিরা ওত পেতে থাকে প্রতিদিন। শুনেছি কোনো কোনো দুপুরে ওপাশের দোতলায় জানলার দিকে মুখ করে বসে থাকতেন জীবনানন্দ।
সে স্মৃতির নাব্যতা বেয়ে জল পড়ে, ক্ষীণ ধারা।
সন্ধ্যায় তিমির আসে, দুটো সিগারেট।
ঘামের গন্ধে মশগুল হয়ে আমরা দেখি
রমানাথ মজুমদার স্ট্রিটের বইবাহকেরা
হেঁটে যাচ্ছে মহাপ্রস্থানের দিকে।
অফিস
প্রস্তরীভূত হয়ে ওঠার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পা,
ঈশান কোণের কথোপকথনে এবার যে বৃষ্টি হল
চারপাশে ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় সূর্যাস্তের মতো
গোপন দৃশ্য দেখতে পারেনি অনেকেই!
অথচ তুমি সমুদ্র-স্নানের গল্প ফোনে
বলে গেছ মাঝরাত থেকে,
সেইসব অভিসার তন্তুর মতো পেঁচিয়ে
ধরেছে রক্তকোশ।
জীবন আর জীবিকার মাঝখানে শুয়ে আছে
এক বৃদ্ধ উট;
তার জোড়া ভ্রূ-র নীচে বেড়ে উঠছে মরুভূমি
একদা যেখানে সবুজ ছিল বলে শোনা যায়।
লাইকা
অন্ধকার হয়ে এলে আমার ভেতর একটা লাইকা বেজে ওঠে।
খিদে আর তেষ্টার মতো যাবতীয় যৌন সুখের পাশে ছড়ানো সার্কিট, ফেলে যাওয়া রাস্তায় চাঁদের আলো, দূরের কোনো এক রেডিয়োস্টেশনে বেজে ওঠে বিউগল।
মায়া চরাচর জুড়ে সমস্ত রাত, মস্ত এক মহাকাশ যান হয়ে দ্রুত ছুটে যেতে থাকে আমার ঘর!
আমি ঘেউ ঘেউ ডেকে চলি…
শঙ্করাচার্য যা বলেছিলেন
প্রতিটি গড়িয়ে নামার একটা ইতিহাস থাকে
অথবা সিসিফাস ও পাথরের আত্মার মধ্যে
গুপ্ত দরজা, পাল্লায় ভারী পেরেকের ভৈরবী
বেজে ওঠে।
পুরাণের পাতায় পাতায় আমার ছায়া
আর শহরের কফিশপে অস্তগামী আলো।
এ বড় বেদনার!
অক্ষত কোনো আনন্দ বাঁশি হয়ে যাচ্ছ
গৌতমবুদ্ধ
তোমাকে ক্ষমা করার মতো ধী শক্তি আমার নেই।
বড়জোর মুখের দিকে তাকিয়ে বর্ষিত হতে পারে করুণা।
ইদানীং ভোররাতে একটা জনহীন রাস্তা,
হাত পা ছড়িয়ে দেয় বুকের ভিতরে
যেন এক মৃত্যুভয় সুদূর থেকে…
ভেসে আসে গন্ধ,
গন্ধ এসে নাড়িয়ে দেয় ঘুম!
অসংখ্য শবাধার ছেয়ে আছে চারপাশ।
তোমার সমস্ত শরীরে বর্ষিত হচ্ছে মধুর করুণা।



