Bengali poetry of Prasenjit Dutta

প্রসেনজিৎ দত্ত-এর কবিতাগুচ্ছ

নিমেষে নুইয়ে পড়া দেহ
মা ভাসে, বৈতরণী হবে পার
কে তার খেয়া ঠ্যালে?
কে তার হৃদয়ের শব্দ শোনে?
নিমেষে নুইয়ে পড়া দেহ― মা ভাসে,
ভেসে যায় নদীর দিকে…
জল আরও জল― তেষ্টা পায়
নদী থেকে ঝিনুক খুঁজে আনেন ঈশ্বর


মা পুজোয় বসলে বলতাম
পুজোর ঠ্যালায় অফিসে দেরি হয়ে যাবে
শুনে নীরব হাসি আর শঙ্খ বেজে উঠত।
ওই শঙ্খ আমি বহুবার ফুঁ দিয়েছি
শ্বাসে কুলোয়নি, বাজেনি কখনও
মা বলত, শ্বাস ধরে রাখ আর দীর্ঘজীবী হ
বলতাম, দীর্ঘ জীবন পাও তুমি নইলে আমিও অসার
শুনে নীরব হাসি আর ঘণ্টা বেজে উঠত।
ওই ঘণ্টা আমি বহুবার বাজিয়েছি
হাতের মুদ্রাদোষে দেবতা জাগেনি
মা বলত, দোষগুলো ভুলিস না আর দীর্ঘজীবী হ
বলতাম, দীর্ঘ জীবনের আশীর্বাদ তোমাকেও কেউ দিক।
মা ঠাকুরগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকত
ঠাকুরগুলো মায়ের দিকে
এভাবেই চাওয়া-চাওয়ি খেলা এখনও চলছে
মা উঠে পড়ছে পুজো সেরে― ভাত বসাবে অন্নপূর্ণা

তার দেহাংশসমূহ ছাই হয়ে আগুনের অহংকার
আগুনের ভিতর পোড়া নাভি― মাতৃনাভি
ডোমে দেবে সেই অবিনশ্বরকে, মূল্য ধরেছে;
দিনের শেষ কাজে লাভের অঙ্ক মেলাচ্ছে যম।
জীবনের মূল্য চুকিয়ে ক্রমে ঈশ্বর হয়ে যাওয়া মা
সূক্ষ্ম দেহের ওমে ডেকে আনছে ভোর…
জবাকুসুম সঙ্কাশং… নতুন মহাদ্যুতি…
অরুণ জুলুসে আকাশ রাঙছে
পৌষ সংক্রান্তির তেজে খাঁ-খাঁ করছে হাঁড়িপাতিল,
রান্নাঘরে উধাও পায়েসের গন্ধ
কিনে আনা নতুন গুড়ে ঘোর অমাবস্যা


মায়ের বিশুদ্ধ চক্রে ফুটো
নল ঢুকেছে গলায়
যেন কুণ্ডলিনী, পৌঁছে যাচ্ছে এই তলে
পূর্ণ চাঁদ ফুটেছে, শিরে অর্ধনরেশ্বর
কী তার পরের তল?
ওই দেহের কশেরুকায় আলাপ পরমের সাথে
কত কথা… কে যাবি খেয়া, কে যাবি পাড়?
মাঝির হাতে বৈঠাসমান লাল মূলাধার

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top