Aliener Galpo a short story by Kishore Ghosh

এলিয়েনের গল্প— কিশোর ঘোষ

Poetry of Kishore Ghosh

মাঝে মাঝেই মরতে ইচ্ছে করে। অনলাইন পৃথিবীতে নিজেকে অফলাইন এলিয়েন মনে হয়। পটলডাঙার পল্টু, পটলের আড়তদার, সেও মাইরি বড় কবি বনে গেল! ‘মূলিবাঁশ’ পত্রিকা ওর গুচ্ছকবিতা বের করে মাসে মাসে, ‘কবিতা কঙ্কাল’ ওকে সম্প্রতি ‘মহাকবি সম্মান’ দিয়েছে। মাস খানেক আগে সাহিত্য ন্যাকাডেমিও সংবর্ধনা দিয়েছে শ্রীপল্টুকে। শুনছি বাংলা মার্কেটের চোখা সুন্দরী সুরসুরি সেনের সঙ্গে ইয়ে চলছে পল্টুর। ভাবো, সুরসরির ইয়েতে অনেকেই তো জায়গা খুঁজছিল, কিন্তু দরজা খোলেনি সবার জন্যে। আসল কথা, সুন্দরী অধ্যাপিকার মোটা মাইনে, কে আর চাইনে? কিন্তু দাওটা মারল সেই পল্টু দ্য গ্রেট!

নিন্দুকদের দাবি, পল্টুর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে পটলের ব্যবসা। ক্ষমতাবানদের নজরানা দিয়েই নাকি পাইকারি দরে পুরস্কার, সম্মান কিনছে সে। কিন্তু সুরসুরি এটা কী করল! কী দেখে পছন্দ করল ওই পল্টুকে? এর উত্তরও আছে নিন্দুককুলের কাছে। তাঁরা বলছেন, পল্টু নয়, পল্টুর পটলের দিকে নজর ছিল সুন্দরীর। ইয়ে ‘পটল’ মানে পটলের রমরমা ব্যবসা আর কী।

যাক গে মানে। আসল কথা মাঝে মাঝেই মরতে ইচ্ছে করে আমার। অনলাইন পৃথিবীতে নিজেকে অফলাইন এলিয়েন মনে হয়। তাই চললুম ফের শান্তিনিকেতনে। সোনাঝুরি হাটের পিছন দিকে গোয়ালপাড়ার কাছে একটা মোটাসোটা শেওড়া গাছ পছন্দ করে এসেছিলাম গেলোবার, পৌষভ্রমণে। ঝোলায় নিয়েছি আমার না হওয়া মেয়ের একটা ছবি, এযাবৎ প্রকাশিত আমার তিনটে কাব্যগ্রন্থ আর একগাছা দড়ি।

অতএব, একটা সাদা ধবধবে দড়ির দোলনা বানাব। পূর্ণিমা রাতে সেই দোলনায় চড়ে বসব আমি। প্রথম দোলটা খাওয়ার আগে পকেট থেকে ফোনটা বের করে ছুড়ে মারব সুদূর কলকাতার দিকে। শান্তিনিকেতন সোনাঝুরির জঙ্গল থেকে ছোড়া মোবাইলটা আকাশপথে বর্ধমান, ডানকুনি, হাওড়া ডিঙিয়ে সাহিত্য ন্যাকাডেমির ছাদে পড়ে ঠুন-ঠান-ঠুক শব্দে আড়াই টুকরো হয়ে ভাঙবে। প্রথম টুকরো ওই ছাদেই স্থবির হবে। দ্বিতীয় টুকরো পড়বে ধনকুবের ব্যবসায়ী কবি পল্টুর তেল চকচকে টাকে। ওর টাক ফুলে আলু হয়ে যাবে। আলুতে বরফ ঘষবে পল্টু।

তৃতীয় এবং অর্ধেক টুকরো উড়তে উড়তে সুরসুরি সেনের বুক বের করা ব্লাউজের ভিতরে ঢুকে হেব্বি সুরসুরি দেবে। হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে সুরসুরি। যদিও ব্লাউজের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে হাজার তল্লাশিতেও মোবাইলের অর্ধেক টুকরো খুঁজে পাবে না সুন্দরী। তখন সুরসুরিকে ঘিরে থাকা পুরুষ ভিড় সমবেত কণ্ঠে বলে উঠবে—হাত ঢোকাবো? যদিও এইসব শহুরে কাণ্ডে আমার ছেড়া যায় এখন।

কারণ অনলাইনের সমস্ত তার কেটে ফেলেছি আমি। কলকাতায় মরে গেছি, শান্তিনিকেতনে সোনাঝুরি জঙ্গলে মাঝরাতের জ্যোৎস্নায় বেঁচে উঠে দুলছি, ভাসছিও বলতে পারেন। যে কবিতা আমাকে ব্যর্থতা দিয়েছে, সে-ই এই অনন্ত শান্তির দিকে নিয়ে এসেছে আমায়। আহা, মাটি থেকে দিগন্ত অবধি দোল খাচ্ছে আমার অস্তিত্ব! চাঁদের দোলনায়, জ্যোৎস্নার দড়িতে চেপে চলেছি সাক্ষাৎ ঈশ্বরের দিকে…! একটি নতুন কবিতার দিকেও বলতে পারেন! যেখানে, পটল, সুরসুরি, ন্যাকাডেমির অস্তিত্ব নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top