
কালারব্লাইন্ড শহরে নেশার মতো রাত নামছে। একটা স্লিভলেস রাত। ডাস্টবিনের উত্তরাধিকার বুঝে নিতে চুলোচুলি করছে দুটো কুকুর। ওদের কিচাইনে খানিকটা মাংস ছিটকে পড়লো পাশের নর্দমায়। একটা কালো বিড়াল এদিক থেকে ওদিক চলে গেলো স্যাট করে। এই রিফ্লেক্সটাই জীবন, এই পিছলে যাওয়াটাই একজন সফল ফিনিশারের শেষ বলে ছয় মেরে গ্যালারির দিকে ছুঁড়ে দেওয়া ভিকট্রি কিস। আর এখানেই যেন হেক্টর আর অ্যাকিলিসের থেকে আলাদা প্যারিস। আর এখানেই লর্ডসের ব্যালকনি থেকে টি-শার্ট ওড়ানো সৌরভ গাঙ্গুলি অদৃশ্য কলার তুলে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় জীবনের।
গুটখা চিবোতে চিবোতে ঠিক রাস্তার মাঝখানে একদলা থুথু ফেলে রাতের আরও গভীরে ঢুকে গেলো কেউ একজন। অনেকক্ষণ ধরেই এসব লক্ষ্য করছিল তথাগত। আর তথাগতকেও যেন কেউ…।
— স্যর এত রাতে এদিকে কিছু পাওয়া যাবে না। আপনি কোথাও যাবেন?
সামনের কুকুরটাকে প্যাকেট থেকে একটা ঠান্ডা চিকেন ললিপপ দিয়ে হালকা করে ঘাড় তুলে তাকালো তথাগত। কয়েক সেকেন্ড ভাবল, তারপর পকেটে রাখা টিস্যু পেপারে হাতটা মুছে একটা সিগারেট ধরাল। প্রথম পাফটা নিয়ে আরও ঠান্ডা গলায় বলল সাহেবকলোনি মোড় যাবি?
— বসুন। একশো লাগবে। বারোটা বেজে গেছে মানে এখন বুলেটের রেট।
— তোর নাম বুলেট! ইন্টারেস্টিং!
— আরে আমার নাম পঞ্চু আছে। এরিয়ায় সব ভালোবেসে বুলেট বলে। বুলেট পঞ্চু।
— আচ্ছা চল।
অটো চলছে। বুলেট গুটখা চিবোতে চিবোতে পিচ পিচ করে থুতু ফেলছে আর খচরমচর করে এই শহরের রাতের গল্প বলছে। একটার পর একটা লাল, নীল, গোলাপি, বেগুনি সব গল্প।
তথাগত শুনছে আবার শুনছেও না। জ্বলন্ত ফিল্টার উইলস থেকে রিওয়াইন্ড হচ্ছে সন্ধের একটার পর একটা পিক্সেল।
— একটা কথা জিজ্ঞেস করবো স্যর।
— বল।
— আপনি কি রাতের বেলাতেও গগলেস পরেন?
তথাগত মুচকি হাসে।
— না হলে যে লাল নীল গোলাপি সব ভ্যানিশ হয়ে যাবে… এই তোর গাড়িতে গান চলে? একটা ঝিংকু দেখে বাজা তো।
বুলেট অটোর লাইটটা জ্বালায়। নীল আলো। তারপর পকেটে হাতড়ে মিউজিক সিস্টেমের পোঁদে একটা পেনড্রাইভ গুঁজে দেয়। গিব গিব করে গান বেজে ওঠে।
হঠাৎ লুকিংগ্লাসে চোখ যেতেই চাপা গলায় চেঁচিয়ে ওঠে বুলেট।
— একী? আপনার জামার হাতায় রক্ত?
— আমার না।
— তাহলে কার?
— যাকে একটু আগে মারলাম তার।
— মারলাম মানে!
— মানে তুই বুলেট আমি মেশিন, ফুল খাল্লাস।
তথাগত আবার মুচকি হাসল। তার বরফ শীতল চোখ কিন্তু আগুন ঠিকরাচ্ছে। বুলেট কিছু বলার আগেই দুটো পাঁচশো টাকার নোট সামনের দিকে এগিয়ে দিল তথাগত। বুলেটের গলা কাঁপছে, ঠোঁট দুটো নড়লো হালকা কিন্তু শব্দ বেরোল না।
— এটা অ্যাডভান্স। কাজ খতম হলে আরও দুই। আপাতত দু-ঘণ্টা আমার। ওয়েটিংয়ের জন্য এক্সট্রা কিছু দিয়ে দেব। ফার্স্ট ডেস্টিনেশন সোনু বার, ওখানে দাঁড়াবি তারপর উল্লাস যাব। ওকে।
কোমরে একটা ঠাণ্ডা স্পর্শ পেল বুলেট। এ স্পর্শ তার অচেনা নয়। কেউ আর কোনও কথা বলছে না। অটো চলছে আর গিব গিব করে বাজছে আজ কি রাত হোনা হে কেয়া…।



